তথ্যঃ যে কোন মূল্যে মঞ্চের কাজ দেখুন, সরাসরি (মঞ্চ নাটক সমাজের দর্পন)

[ad_1]

মঞ্চের কাজ আমাকে সব সময়েই টানে। সরাসরি বসে যে কোন মঞ্চের কাজ দেখতে ভাল লাগে, নাটক, নৃত্য গীত সবই! আমি মনে করি মঞ্চের এই কাজ গুলো মানুষের বিবেকের বিনোদনের প্রধান উৎস, অথচ আজকাল মানুষের এই বিষয়ে আর নজর নেই, মানুষ এখন এই বিনোদনে সময় ও অর্থের অপচয় মনে করে। বলতে লজ্জা নেই, আমাদের দেশের মানুষের এই অবস্থা ছিলো না, গত ৩০ বছরে আমাদের দেশের মানুষ বিচারহীনতায় ভুগে ভুগে এই পর্যায়ে এসেছে বলে আমি মনে করি, সাধারন মানুষের কাছে এখন টাকাই সব, কারন মানুষ বুঝে গেছে টাকা থাকলে সে যে কোন অকাজ করে বেঁচে যেতে পারে এবং যায়। মঞ্চের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার এই হীনতা আমাদের ভাবিয়ে তোলে, যদিও আমি এর দায় সাধারন মানুষকে দিতে চাই না, এর দায় আমাদের সরকারকেই নিতে হয়, তাদের সুযোগ্য শাসন না থাকায় মানুষ কুপথে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে বা হচ্ছে। গত তিন বছরে বা করোনা পূর্ব সময়ে সরকারের কোন প্রধান ব্যক্তি মঞ্চে কিছু দেখেছেন এবং মঞ্চের পক্ষে কাজ করছেন তা আমি কোন খবরে দেখি নাই অথচ তাদের এই দেখার কারনে সামান্য কিছু মানুষ এই কাজ গুলো দেখতে পারত বা আগ্রহ বোধ করতে পারত। মানুষের এই না দেখার কারনে, মঞ্চে যারা কাজ করেন তারাও হারিয়ে যেতে বসেছে, তারাও আর্থিক মানসিক কোন কিছুতেই আর স্বাচ্ছন্দবোধ করছে না, আবার এই মঞ্চে কাজ করা কিছু ব্যক্তি নিজেরাও দোষী, তারা সব সময়েই সরকারের লেজে তেল ঘি মেখেছে, সমাজের কথা বলে নাই বা বলতে চায় নাই, মঞ্চের কাজ সাধারণত মানুষের পক্ষেই যেতে হয়, এখানে মিথ্যার কোন স্থান নেই, মিথ্যা বললে মানুষ তাকে চিনহিত করে ফেলে, মঞ্চের এই লোক গুলো আমাদের গোবরে সাংবাদিক শিক্ষকদের মত আচরন করে সাধারন মানুষকে ঠকিয়েছে, ফলে এর ফলাফল তারা পাচ্ছে, তাদের কাজ গুলো এখন আর কেহ টাকা খরচ করে দেখতে চাইছে না।

যাই হোক, এই বিষয়ে অনেক কিছু বলতে চাইলেও ইচ্ছা হচ্ছে না কারন অনেক তিতা সত্য সহ্য করার মত লোক আমাদের দেশে আর নাই। তিতা কথা মনে করে তারা আরো সিরিয়াস হয়ে গেলে যারা এই সব সমালোচনা করেন তাদের জন্য বিপদজনক হয়ে যেতে পারে। নিজেরা নিজদের সংশোধন হবে না কিন্তু অন্যের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে যেতে তাদের কোন সমস্যা হবে না, যে কোন কিছুর একটা মানদণ্ড আছে, তারা সেটা ভুলে যাবেন নিশ্চিতে। ফলে এখন অনেক সত্য বলা চলে না বা বলা যায় না! তবুও কিছু কথা বলতে হয়, কেহ না কেহ শুনবেই!

আমি মঞ্চ নাটক খুব পছন্দ করি এবং সব সময়েই মঞ্চ নাটকের পক্ষে কথা বলি, আমি প্রচুর মঞ্চ নাটক দেখেছি এবং এক সময়ে এই বিষয়ে কাজ করার ইচ্ছা হলে আমি নাটকের উপর পড়াশুনা করি, নাটক শেখার স্কুলে ভর্তি হই এবং এই বিষয়ে আমার সার্টিফিকেট আছে, তবে জীবনের প্রয়োজনে আমি সেই মোতাবেক জড়িত হতে পারি নাই বলে এখনো দুঃখ লাগে। তবে সুযোগ পেলেই আমি এখনো একা হলেও মঞ্চ নাটক দেখতে যাই, আমার কাছে এটা সেরা বিবেকের বিনোদন মনে হয়, তেমনি গতকাল সন্ধ্যায় আমি মহিলা সমিতির মঞ্চে দেখলাম নাটক, মূল্য অমূল্য! চমৎকার নাটক, সামান্য কয়েকটা ছবি তুলেছিলাম মোবাইলে, এই নাটকের অভিনেতা অভিনেত্রীদের কাজ চমৎকার হয়েছে, মঞ্চের কাজের চমৎকার পালা! চলুন, কয়েকটা ছবি দেখি। নাটকের গল্প চমৎকার, ভাইয়ে ভাইয়ের দন্দ বা মানসিক দূরত্ব নিয়ে লেখা এই নাটক, আপনিও দেখতে পারেন। কাজে পেশাদারিত্ব আছে।

নাটকের নির্দেশক নিজেই চমৎকার কাজ করেছেন, এই চরিত্রে মিঃ আবুল হায়াত কাজ করে থাকেন, তবে হয়ত আজকে উপস্থিত থাকতে পারেন নাই, বিকল্প হিসাবে মিঃ বারী সাহেব নেমেছিলেন, অসাধারন কাজ করেছেন তিনি, পিতার চরিত্রের ফাঁকে ব্যবসাহী খোদা বক্স বেপারী, অনবদ্য অভিনিয়।
মাত্র ১০০ টাকাতেই এমন একটা প্রদর্শনী দেখা যায়, এটা তেমন কোন টাকাই নয় একজন মধ্যবিত্তের চিত্ত বিনোদনের জন্য! হা হা হা
নাটকে উপস্থিত দর্শক কম হলেও আমি গুনে ছিলাম, ৮০ জনের মত, পরে আরো কয়েকজন এসেছিল। এই দর্শক উপস্থিতি যে কোনভাবেই বাড়ানো উচিত। তবে কিছু নারী পুরুষ দেখলাম একাত্রে হাতে হাত ধরে নাটক উপভোগ করেছেন, এটা চমৎকার লাগলো, নুতন পুরাতন প্রেম হতে পারে! আমার মনে হয়েছিল প্রিয়তমা স্ত্রীকে নিয়ে এই নাটক উপভোগ করা উচিত ছিলো কিন্তু কে কাকে এই কথা বলবে! তবে আগামী ৫ তারিখে দেখলাম কঞ্জুস আবার মঞ্চায়ন হবে, নাটক্টা আগে দেখা হলেও ভাবছি প্রিয়তমা স্ত্রী ও পুত্রদের নিয়ে আবারো দেখবো।
নাম না জানা এদের অভিনয় ভাল লেগেছে। স্বামী স্ত্রী হিসাবে বেশ চমৎকার অভিনয় করেছেন, নিরাপত্তা শাখায় কাজ করা একজন সৎ পুলিশ অফিসার ও তার স্ত্রী, তবে পুলিশের পোষাক যথাযত করা দরকার ছিলো, কোন পুলিশ সৎ হতে পারে, এটা দেখার মত ছিলো, আমাদের সমাজে এখন সৎ পুলিশ অফিসার চিন্তাই করা যায় না!
ছোট ভাইয়ের চরিত্রে অসাধারন অভিনয় এই অভিনেতার, সাইফ সুমন কিংবা এস আর সম্পদ হতে পারেন, অসাধারন কাজ।
অসাসাধারন অভিনয়। এই অভিনেতার মুল স্ট্রীমে প্রবেশ করা উচিত।
খোদাবক্স চরিত্রে অসাধারন অভিনয় রূপান্তর ও নাট্যকার মি বারী সাহেবের।
মঞ্চ সজ্জা তেমন দৃষ্টি আকর্ষন না হলেও কমের মধ্যে চমৎকার।
নাটক দেখার আগে গল্প ইঙ্গিত পড়ে পড়েবেশ করা যেতে পারে, এতে নাটক বুঝতে আরো ভাল হয়।

সবাইকে শুভেচ্ছা, আপনিও আনন্দ নিন, প্রিয় বন্ধুদের নিয়ে মঞ্চের এই কাজ গুলো দেখুন, সময় কাটবে ভাল, সাথে কিছু জ্ঞানের খোরাক পাবেন। আবারো শুভেচ্ছা।

[ad_2]

You May Also Like

About the Author: Munni Akther

Munni akter (Munni) is the founder of this site. He is a Bangladeshi professional Blogger, Freelancer, Web Designer & Youtuber. Currently this site’s maximum posts are updated by himself, They are working hard to make this site valuable for all.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *